Machine Learning সম্পর্কিত প্রধান ভুল ধারণাগুলো…

১. আমরা খুব দ্রুতই মানুষের সমান বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দেখতে পাবো।

ভুল!

এটা ঠিক যে আমরা মানুষের চেয়ে নির্ভূলভাবে কিছু নির্দিষ্ট কাজ করতে পারে এমন অনেক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দেখতে পাচ্ছি। আমরা এদের সেবাও নিচ্ছি, কেননা যন্ত্রের গণনার ক্ষমতা মানুষ থেকে ঢের বেশী। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মূল লক্ষ্য, অর্থ্যাৎ General Al থেকে আমরা এখনো যোজন যোজন দূরে। ইমেজ কিংবা অবজেক্ট ডিটেক্টশনে এখনকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাগুলো বেশ পারদর্শী হলেও Natural Language Processing-য়ে এর অগ্রগতি এখনো বাচ্চাদের লেভেলের।

২. Deep Learning Neural Network Model খুব ভালো কাজ করে, তার কারণ হচ্ছে এটি মানুষ মস্তিষ্কের অনুকরণে তৈরী তাই এই মডেল মানব শিখন পদ্ধতির প্রতিকল্প তৈরী করে।

ভুল!!

DEEP LEARNING

বাস্তবে Deep Learning Neural Network Model ইদানিং বেশ ভালো কাজ করছে কারণ–

ক. আমাদের এখন আগের যেকোন সময়ের চেয়ে দ্রুত গতি সম্পন্ন কম্পিউটার আছে।
খ. আমাদের এখন আগের যেকোন সময়ের চেয়ে যন্ত্রের প্রশিক্ষণের জন্য বেশী ডেটা আছে।

৩. Machine Leaning বর্তমান সময়ের নতুন আবিষ্কার।

ভুল!!!

যদিও Machine Learning একটি নতুন শক্তিশালী ধারণা হিসেবে বর্তমানে আলোচিত হচ্ছে, কিনতু এই ধারণাটি মূলত লিনিয়ার এলজেব্রা, আসন্ন পদ্ধতি, সাংখ্যিক বিশ্লেষণ এবং পরিসংখ্যানের কিছু ধারণার মিলিত রূপ। বর্তমানে এই ধারণাগুলো Machine Learning নামে speech recognition, image classification ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এই ধারণাগুলো আজকের না, বরং কয়েক শতাব্দি আগের।

মূলঃ https://www.quora.com/What-are-the-most-common-misconceptions-about-machine-learning

Advertisements

একটি ইন্টারেস্টিং Quora উত্তরের বাংলা রূপান্তর

ম্যাট্রিক্স মুভিতে মেশিনের শক্তি সরবারহের জন্য কেন শুধুমাত্র ব্যাটারি হিসেবে মানুষকে ব্যবহার করা হলো? মানুষের বদলে গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া বা অন্যান্য শক্তিশালী প্রাণিদেরকেও তো এনার্জি সেল হিসেবে ব্যবহার করা যেত!!

আসলে ম্যাট্রিক্স মুভিতে মেশিন মানুষদের শুধুমাত্র এনার্জি সেল বা ব্যাটারী হিসেবে ব্যবহার করেছে এই ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। আসলে মানুষরাই মেশিনের বিরুদ্ধে নিজেদের যুদ্ধকে জাস্টিফাই করার জন্যে এটি বলছে। অর্থ্যাৎ মানুষ নিজেরাই নিজেদেরকে মোটিভেট করার জন্য এটি বলছে। আসল ব্যাপারটা হচ্ছে মেশিন মানুষদেরকে সুরক্ষিত রাখার জন্যই তাদেরকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে আটকে রাখছে। একটু ব্যাখ্যা করলে বিষয়টা আরেকটু পরিস্কার হবে।

মেশিনদের ডিজাইন করা হয়েছিল মূলত মানুষকে সুরক্ষিত রাখার জন্য। যে কোন মেশিনারি সিস্টেমের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্যই থাকে মানুষের কাজকে কমিয়ে আনা, মানুষের কাজগুলোকে আরেকটু সুবিধাজনক করা। কিন্তু দেখা গেল মানুষ মেশিনকে ভয় পেতে শুরু করেছে এবং মেশিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে ক্রমেই একটা বিপ্লব মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে। আবার দেখা যাচ্ছে নিজেদের ভিতর যুদ্ধে মানুষ পৃথিবীর ইকোসিস্টেমকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে গেছে। ধুলোবালিতে সূর্যের আলো ঢাকা পড়েছে। ঠিক সেই সময় মেশিন বুঝতে পারলো, মানুষের অস্তিত্বে বিপন্নের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি মানুষ নিজেই। তাই মেশিন মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য তার নিজের মত করে একটা পরিকল্পনা বের করলো।
matrix
ম্যাট্রিক্স মুভির একটি কল্পিত চিত্র
মেশিন বুঝতে পারলো মূল সমস্যাটা হচ্ছে মানুষের নিজের মত করে চিন্তা ভাবনা করার ক্ষমতা। তাই মানুষের চিন্তাভাবনাকে একদিকে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। কিন্তু মানুষের চিন্তা-ভাবনা নিয়ন্ত্রণ করার আবার একটা সমস্যাও আছে। মানুষ সবসময় সুখী থাকতে চায়। আর সুখী থাকার সবচেয়ে বড় উপায়টা হচ্ছে যা ইচ্ছা তাই করতে পারা, স্বাধীনভাবে ভাবতে পারা, মানে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেরা নিতে পারা আর তার সাথে সাথে সেইসব কাজের বাস্তবায়নও নিজের মত করতে পারা। অর্থ্যাৎ আমি যদি মানুষকে ফ্রি উইল না দিই, তাহলে মানুষটা সুখী থাকবে না। আবার ফ্রি উইল দিলেও নিজেরা নিজেদেরকে ধ্বংস করে ফেলবে। সুতরাং মেশিন পরলো মহাফাপড়ে। কোন মেশিনই প্যারাডক্স পছন্দ করে না।

সুতরাং মেশিনের মাথায় যেই সমাধানটা আসলো সেটা হচ্ছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। এখানে মানুষদের চিন্তাভাবনা থাকবে স্বাধীন, তারা নিজেরা নিজেদের মতই চলবে, কিন্তু ভার্চুয়লি। মূল নিয়ন্ত্রণ থাকবে মেশিনের হাতে। মানুষ যত স্বাধীনভাবেই চিন্তাভাবনা করতে পারুক, নিজেদের ধ্বংস করতে পারবে না। তারা নিজেদের ভার্চুয়াল জগৎে ঘোরাঘুরি করবে—আর ভাববে, বাহ! আমরা তো মহা সুখে আছি! মানুষের শরীর থাকবে ছোট ছোট ব্যাটারী সেলে, কিন্তু তারা বাস করবে ভার্চুয়াল ম্যাট্রিক্সে।

সুতরাং প্রশ্নটা হচ্ছে, কেন তাহলে মরফিয়াস নিওকে বললো, মেশিন আসলে মানুষদের ব্যাটারী হিসেবে ব্যবহার করছে? কারণটি হচ্ছে ম্যাট্রিক্সে কিছু ত্রুটি সবসময়ই ছিলো। কিছু মানুষ সবসময় ছিলো যারা ম্যাট্রিক্সের ফলাফলেও সন্তুষ্ট ছিল না। তারা বুঝতে পারছিল, তাদের জীবনযাত্রায় কিছু একটা ভুল হচ্ছে। কিছু অস্বাভাবিক ব্যাপার তাদের চোখে পড়ছিল। ম্যাট্রিক্সের আর্কিটেকচার এমন হবার কথা ছিলো যেন মানুষের কাছে জিনিষটাকে স্বর্গ বলে মনে হয়। সমস্যাটা ছিলো এখানে ঘটনাগুলো ছিল লিনিয়ার। এই ম্যাট্রিক্সের মানুষের আবেগ এবং অনুভূতিগুলো মিল খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছিলো।

মেশিন এই সমস্যা সমাধানের জন্য ওরাকল নমে একটি প্রোগ্রাম ডিজাইন করা হলো। ওরাকল একটির বদলে দুইটি ম্যাট্রিক্স তৈরী করলো। এর পেছনের মূল কারণটি ছিল মানুষ আসলে সংশয়বাদী। ধরা যাক আপনি একটি গাড়ির শোরুমে গিয়েছেন গাড়ি কিনতে। এখন প্রথম দোকানের সেলস্ম্যান আপনাকে বললো, আমাদের গাড়িটাই সবচেয়ে ভালো। চোখ বুজে কিনে নিয়ে যান। আপনি জিতবেন। কিছু মানুষ প্রথম সেলস্ম্যানের কথা বিশ্বাস করে গাড়ি কিনে ফেলবে। কিন্তু বেশীরভাগ মানুষ প্রথম দোকান পার হয়ে অন্যান্য দোকানে গাড়িগুলোও দেখবে। অন্য কোন দোকানের সেলস‍্ম্যান যদি বলে, আরে ভাই জানেন না? ঐ দোকানের গাড়িগুলা তো ভূয়া। এই কথা শোনার পর বেশীরভাগ সম্ভবনা, আপনি আর প্রথম দোকানে ফিরে যাবেন না।

মরফিয়াস আসলে পরের দোকানের সেলস্ম্যান। আর দ্বিতীয় ম্যাট্রিক্স হচ্ছে যা সে বিক্রী করছে। সে সকল সংশয়বাদী মানুষগুলোকে একত্রিত করছে, যারা তাদের জগৎের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান। সে তাদের বলছে, হ্যাঁ আসলেই তোমাদের সন্দেহ ঠিক আছে। ম্যাট্রিক্স জগৎ আসলেই একটা ভারচুয়াল রিয়েলিটি। এর কোন অস্তিত্ব নেই। মেশিন মানুষদের এনার্জি সেল হিসেবে ব্যবহার করছে। দ্বিতীয় ম্যাট্রিক্সই হচ্ছে সত্যিকারের জগৎ। দ্বিতীয় ম্যাট্রিক্স নিয়ে যদি কেউ সন্দেহ প্রকাশ করে তাহলে হয়তো ঐদিকেই বাস্তব জগৎ আছে। কিন্তু আসলেই কোনটি বাস্তব জগৎ আমরা জানি না!

মূলঃ প্রশ্ন উত্তর

বাঘের ডেরা থেকে…

(ডেইলি স্টারে প্রকাশিত মাশরাফির সাক্ষাৎকার “Inside the Tiger’s Den” এর অনুবাদ)
MASH COVER 1.0জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকেই আমি ক্রিকেট নিয়ে এতটা নিরত হয়ে ছিলাম যে আমি বুঝতেই পারিনি কোন উৎসব আসছে। গতকাল ম্যাচের পরে আমি সেহরীর জন্য উঠলাম এবং ভাগ্যক্রমে একটি দোকান খোলা ছিল যেখানে আমি আমার বাচ্চাদের জন্য কিছু শপিং করতে পেরেছি।

আহ! একটা নাভিশ্বাস ওঠা জীবন। তৃতীয় ম্যাচ শেষে আমি হঠাৎ করে অনুভব করি ঈদ চলে এসেছে এবং আমি আমার চমৎকার নিজের শহরটিতে ঈদ করতে যাচ্ছি। আমাদের প্রত্যেকেরই নিজের একটি স্বস্তির জায়গা আছে। কিছুলোক হয়তো বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে জায়গাটি আমার নিজের বাড়ি। এটি আমাকে নতুন করে পুরোনো শক্তিতে উজ্জিবিত করে।

কেউ যদি সত্যিকার অর্থে খেলা বোঝে তাহলে অবশ্যই তারা স্বীকার করবে গত কয়েকমাসে আমরা অসাধারণ কিছু সময় পার করেছি। এবং আমার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় একটি অর্জন, বিশেষ করে ২০১৫ সালটি। আমাদের কাছে—একদিনের ক্রিকেট, গত আট মাস ছিলো একটি স্বপ্নের মত, আমরাই এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছি।

আমি অনুভব করি বাংলাদেশ ক্রিকেট আজ এমন একটি পর্যায়ে এসে পৌছেছে যেখানে সময় এসেছে আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার। অবশ্য আমি এখনো বুঝতে পারছি না সাধারণ জনগণ এটি কীভাবে নিয়েছে। তারা যদি ক্রমাগত জয়ের আশা অব্যাহত রাখে তাহলে আমাদের জন্য এটি খুবই কঠিন হবে, কারণ আমাদের আরও অনেকদূর যাওয়া বাকি। এরপর আমরা একেরপর এক টি টুয়েন্টি খেলবো যেটি আমাদের জন্য সবসময় চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু তার আগে এরচেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ—দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার সাথে চারটি টেস্ট ম্যাচ খেলা।

আমি আগেই বলেছিলাম—আমরা যদি বিশ্বকাপে ভালো করতে পারি তাহলে এটি আমাদের পরবর্তী সিরিজগুলো খেলতে সাহায্য করবে, কিন্তু আমি নিজেও ভাবিনি এটি আমাদের এতদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সত্যিকার অর্থে, অনেকেই আমাদের সমালোচনা করেছে এই বলে যে—তামিম প্রতিবারই আউট হয়ে যাচ্ছে, সৌম্য তার সামর্থ্যের সবটুকু খেলতে পারছে না, কিন্তু আমরা সবাইকে উত্তরটা দিতে পেরেছি। ১৬ কোটি মানুষের ভিতর যদি ৫ কোটি মানুষ ক্রিকেট খেলা দেখে তাহলে তাদের ভিতর ১ কোটি মানুষ এক কথা বলবে, অন্য ৪ কোটি মানুষ অন্য কথা বলবে। তাই আপনাকে যদি সবার কথা শুনতে হয় তাহলে আপনি সামনে আগাতে পারবেন না। আমি অনুভব করি যে আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলার প্রয়োজন ছিলো এবং আমরা সেটি করতে পেরেছি। তামিম এখনো শট খেলছে, সৌম্য স্বাধীনভাবে ব্যাট চালাচ্ছে, বোলাররা জানে কোথায় এবং কখন তাদের আক্রমণ করতে হবে। আমরা সবকিছু করেছি একটি নিয়মের মধ্যে থেকে।

আমি কখনোই আমার জীবনে কোন কিছুর জন্য পরিকল্পনা করিনি—পরীক্ষার জন্যও না, অথবা কোন অনুষ্ঠানের কাপড় কেনার জন্যও না। আমি সবসময় শেষ মুহুর্তে যেটি সঠিক বলে মনে হয়েছে সেটি করেছি। তাই যখন আমি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পেলাম তখন আমি সবসময় যেটি করতাম সেটিই করেছি। আমি সাফল্য, ব্যার্থতা, ভবিষ্যৎ অথবা অতিতের জন্য কখনোই চিন্তা করিনি। এগুলো নিয়ে আমি কখনোই ভাবিনি।

সবাই আমার আক্রমণাত্মক ক্যাপ্টেনসি নিয়ে আলোচনা করেছে। এই ব্যাপারটি আমার কাছে খুব সাধারণ। এখনকার সময়ে আমি লক্ষ্য করেছি ব্যাটস্‍ম্যানদের জন্য খেলাটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। শট খেলাটা তাদের একটি অভ্যাসে দাড়িয়ে গেছে। তারা কখনোই ডিফেন্ড করে খেলার চেষ্টা করে না, কারণ উইকেট এবং খেলার ফরমেট তাদের সহায়তা করে। আমি যেটি লক্ষ্য করেছি—ব্যাটস্‍ম্যানরা শট খেলবেই কিন্তু আপনি যদি তাদেরকে স্ট্রইক বদল করতে না দেন তাহলে সেটি তাদের মধ্যে একটি চাপ তৈরী করবে। যখন তারা স্ট্রইক রোটেট করতে পারবে না তখন তারা বাধ্য হবে রিস্কি শট খেলতে। তাই আমি সবসময় চেষ্টা করি ব্যাটস্‍ম্যানদের একধাপ উপরে চিন্তা করতে।

আমি সেটিই করি যটি আমার মন আমাকে করতে বলে। বৃহঃস্পতিবার আমাকে বলা হয়েছিল মুস্তাফিজুর-কে নিয়ে আসতে, কিন্তু আমি অপেক্ষা করেছি। কারণ আমার মন বলছিল রিয়াদকে আনি। আমি সেটিই করেছি এবং রিয়াদ তার প্রথম বলেই উইকেট পেয়েছে। সুতরাং, এগুলো ছিল হঠাৎ করে নেয়া সিদ্ধান্ত।

আমরা নয় থেকে আটে এসেছি এবং পরে আট থেকে সাতে উঠেছি এবং আমরা আরও উপরে উঠতে পারি। অন্ততপক্ষে আমাদের উচিৎ এই স্থানটি ঠিকভাবে ধরে রেখে সঠিক সময়ে আরও এগিয়ে যাওয়া। ক্রিকেট উত্থান পতনের খেলা, কিন্তু মূল জিনিষটি হচ্ছে ধৈর্যের সাথে আপনার নিজের জায়গাটি ধরে রাখা।

আমি সবাইকে অনুরোধ করবো খুব বেশী উত্তেজিত না হতে। আমাদের উচিৎ আমাদের প্রতিপক্ষকে সম্মান করা। একইসাথে আমাদের পরাজয়গুলোকে খুব রুঢ়ভাবে না নেওয়া। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র ধৈর্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি যে দলটি এখন উন্নতি করছে দুই বা তিন বছর পরে এই দলটি পেশাদারিত্বের পরিচয় দিবে।

আমার ২০০ উইকেট নিয়ে আমি যদি আরো ১০০ টি ম্যাচ খেলতে পারতাম তাহলে আমি আরও গুরুত্বপূর্ণ বোলার হতে পারতাম। সম্ভবত আমাকে নিয়ে সবাই অনেক গর্বিত হত যদি আমি ৩০০ অথবা ৩৫০ উইকেট শিকারী কোন বোলার হতাম। আমি বিশ্বাস করি আমার দীর্ঘ সময় ধরে খেলার সামর্থ আছে, কিন্তু যদিও আমি বাংলাদেশের হয়ে ১৪ বছর ধরে খেলছি, তবুও আমি তিন থেকে চার বছর হারিয়েছি ইনজুরির কারণে।

আজ কিছু কথা পরিষ্কার করে বলি। আমরা সবাইকে বিনোদন দেই। আমরা বীর নই। আমাদের সত্যিকার বীর হচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধারা। আমরা দেশের জন্য কোন কিছু বিসর্জন দিই নি। মুক্তিযোদ্ধারা দিয়েছেন। আমাকে ভূল বুঝবেন না—ক্রিকেট কিন্তু জীবনের সবকিছু নয়। আমরা শুধুমাত্র চেষ্টা করি আমাদের দেশের মানুষকে খুশী করতে।

আমাদের এখনো অনেক কিছু প্রমাণ করতে হবে। আমাদের সামনে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ায় খেলা আছে। যদি আমরা সেখানে কিছু ম্যাচ জিততে পারি তখন আমরা বলতে পারবো আমরা যে কোন দলকে যে কোন জায়গায় হারানোর সামর্থ রাখি। তা স্বত্ত্বেও এই টিমের সবচেয়ে চমৎকার ব্যাপারটি হচ্ছে এরা কখনোই কোনকিছু নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয় না।

আমি আপনাকে এখন বলতে পারি তামিম একদিন ১০,০০০ রান করবে, সাকিব করবে ১০,০০০ রান, সাথে থাকবে ৪০০ উইকেট, মুস্তাফিজের থাকবে ৪০০ উইকেট এবং সৌম্যের ১০,০০০ রান। বাংলাদেশ সামনের দশ বছরে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক আন্তর্জাতিক মানের প্লেয়ার বের করবে, যদি না টাকার মোহযুক্ত টি টুয়েন্টি লিগগুলো সবাইকে আচ্ছন্ন না করে।

আমি জানি না আমি কতদিন এই দলের সাথে আমার খেলা চালিয়ে যেতে পারবো। তবে আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিতে পারি—যখন আমি বুঝতে পারবো আমার দক্ষতা এবং ইচ্ছাশক্তি কমে আসছে, তখন আমি নিজে থেকেই সরে যাবো।

মূল সাক্ষাৎকারের লিঙ্কঃ http://www.thedailystar.net/sports/cricket/inside-the-tigers-den-113689